পৌরাণিক কাহিনীতে প্রতি বছর শ্রাবণ মাসের শুক্লপক্ষের পঞ্চমী তিথিতে নাগপঞ্চমী উৎসব পালিত হয়। জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, নাগপঞ্চমীর দিন এই কিছু বিশেষ মন্দিরে গেলে ও নিয়মানুযায়ী পূজো করলে রাশির কালসর্প দোষ ও সাপের দংশনের ভয় দূর হয়। আসুন জেনে নেই দেশের বিখ্যাত নাগ মন্দির সম্পর্কে।
তক্ষক তীর্থ, প্রয়াগরাজ, উত্তরপ্রদেশ:
প্রয়াগরাজের সঙ্গম নগরীতে যমুনার তীরে অবস্থিত তক্ষক পূজোর জন্য অত্যন্ত শুভ। শুধু নাগ পঞ্চমীতে নয় প্রতি মাসের পঞ্চমীতে এই পবিত্র মন্দিরে পূজো করলে রাশিফলের কালসর্প দোষ ও সাপের দংশনের ভয় দূর হয়।
কর্কোটক নাগ মন্দির, নৈনিতাল, উত্তরাখণ্ড:
উত্তরাখণ্ডের নাগ দেবতার সাথে যুক্ত দুটি বিখ্যাত মন্দির হল ধৌলিনাগ এবং কর্কোটক নাগ মন্দির। এর মধ্যে ধৌলি নাগ মন্দির বাগেশ্বর জেলায় এবং কর্কোটক নাগ মন্দির নৈনিতাল শহরের ভিমতলে অবস্থিত। ঘন জঙ্গলে অবস্থিত এই মন্দিরটিকে ভীমতালের মুকুটও বলা হয়। নাগপঞ্চমী উপলক্ষে কর্কোটক নাগ মন্দিরে নিয়ম করে পূজো করলে কুণ্ডলীর কালসর্প দোষ দূর হয় এবং সাপের দেবতার কৃপায় ব্যক্তি সুখ ও সৌভাগ্য লাভ করে।
নাগচন্দ্রেশ্বর মন্দির, উজ্জাইন, মধ্যপ্রদেশ:
মহাকালের শহর উজ্জয়নীতে অবস্থিত নাগচন্দ্রেশ্বরের মন্দিরটি মহাকালেশ্বর জ্যোতির্লিঙ্গ মন্দির প্রাঙ্গণে অবস্থিত। এই মন্দিরের বিশেষত্ব হল এটি বছরে মাত্র একবার নাগপঞ্চমীর দিনে ভক্তদের দর্শনের জন্য খোলে। শ্রাবণ মাসের শুক্লা পঞ্চমীর দিনে যে ব্যক্তি নাগচন্দ্রেশ্বর মন্দিরে গিয়ে পূজো করেন, তাকে কখনোই সাপের কামড়ের ভয় থাকে না এবং নাগ দেবতার কৃপায় তার জীবনের সকল প্রকার দোষ-ত্রুটি দূর হয়।
মান্নারসালা স্নেক টেম্পল, কেরালা:
দেশের বিখ্যাত নাগ মন্দিরগুলির মধ্যে একটি নাগ মন্দির দক্ষিণ ভারতে অবস্থিত। কেরালার মান্নারশালা মন্দিরটি সাপের হাজার হাজার মূর্তির জন্য দেশ ও বিশ্বে বিখ্যাত। নাগ দেবতার সাথে যুক্ত এই পবিত্র মন্দিরটিকে সকলে সাপ মন্দির নামেও চেনে। এই মন্দিরটি মহাভারত আমলের। এই নাগ মন্দিরে শুধু দর্শন আর পূজো করলেই শূন্য কোল ভরে যায় বলে বিশ্বাস করা হয়।

No comments:
Post a Comment