গুপ্তধন! নাম শুনলেই মনে হয় বেশ একটা রহস্য ঘেরা। এই গুপ্তধন নিয়ে প্রচুর বই, সিনেমা তৈরী হয়েছে। তবে পৃথিবীতে এমন পাঁচটি অতিমূল্যবান গুপ্তধন রয়েছে যার খোঁজ আজ অবধি কেউ পায়নি। বলা হয় যে এই ধন লুকনোর জন্য মালিকরা তন্ত্রমন্ত্র ও জাদুবিদ্যার আশ্রয় নিয়েছিল। কেউ কেউ এই ধনসম্পদকে অভিশপ্তও মনে করেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক এই পাঁচটি অতিমূল্যবান গুপ্তধন সম্পর্কে-
গ্রোসভেনর:
গ্রোসভেনর ছিল একটি জাহাজ যা ১৭৮২ সালে মাদ্রাজ থেকে যায়, কিন্তু দক্ষিণ আফ্রিকার কোথাও ডুবে গিয়েছিল। বলা হয় যে এই জাহাজে দক্ষিণ ভারত থেকে লুট করা এত মূল্যবান হীরা, রত্ন এবং সোনা ও রৌপ্য মুদ্রা ছিল, যা ধারণার বাইরে। এই গুপ্তধনের সন্ধান, কিন্তু আজ পর্যন্ত কেউ খুঁজে পায়নি। প্রকৃতপক্ষে, কিছু লোক বিশ্বাস করেন যে এই জাহাজে দক্ষিণ ভারতের মন্দির থেকে কিছু বিশেষ মূল্যবান পাথর এবং মূর্তি লুট করা হয়েছিল। এই মূর্তি বিনা পূজো করা ছাড়া এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল না। এ কারণেই এই জাহাজ সমুদ্রে কোথাও গায়েব হয়ে যায়।
বিহারের রাজগীর:
বিহারের রাজগীর জেলায় সোনভান্ডার নামে একটি গুহা রয়েছে যা বহু শতাব্দী ধরে বন্ধ রয়েছে। বলা হয় যে মগধ সম্রাট বিম্বিসারের গুপ্তধন এই গুহায় রয়েছে। এই কোষাগার অগাধ ধন-সম্পদ, হীরা, সোনা-রূপায় পরিপূর্ণ। তবে আজ পর্যন্ত কেউ এই গুহা খুলতে পারেনি।
জিন লাফিট:
জিন লাফিট এবং পিয়ের দুজনে কুখ্যাত মেক্সিকান জলদস্যু ছিলেন। কথিত আছে যে তাঁরা মেক্সিকো উপসাগরের মধ্য দিয়ে যাওয়া বেশিরভাগ জাহাজ ডাকাতি করতেন। যুগ যুগ ধরে লুটপাট করা এই অঢেল সম্পদ মেক্সিকো উপসাগরের কাছাকাছি কোথাও লুকিয়ে রাখা আছে। হঠাৎ একদিন এই দুই ভাই মারা যায়।
বলা হয় যে এই দুই ভাইয়ের সেই গুপ্তধন এমন একটি রহস্যময় জায়গায় লুকিয়ে রেখেছিলেন যার হদিস আজ পর্যন্ত কেউ পায়নি।
ওক দ্বীপের ধন:
ওক দ্বীপের গুপ্তধন নিয়ে অনেক রহস্যময় গল্প আছে। কথিত আছে এই দ্বীপে কোটি কোটি টাকার ধন আছে। ফ্রাঙ্কলিন রুজভেল্ট, আমেরিকার রাষ্ট্রপতি এই ধন খুঁজে বের করার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু এই গুপ্তধন আজ পর্যন্ত কেউ স্পর্শ করেনি। কথিত আছে, অনেক জলদস্যুদের এই দ্বীপে তাদের ধন-সম্পদ রাখত। এই গুপ্তধন রক্ষার জন্য তারা এই দ্বীপে এমন অনেক গুহা তৈরি করেছিলেন, যেগুলো খুঁজে পাওয়া ও খোলা প্রায় অসম্ভব।
পদ্মনাভস্বামী মন্দির:
কেরালায় অবস্থিত পদ্মনাভস্বামী মন্দিরে রয়েছে প্রচুর সম্পদের ভাণ্ডার। ত্রাভাঙ্কোরের রাজাদের তৈরি এই মন্দিরটিও অনেক রহস্যে ভরপুর। এই মন্দিরে ৭টি দরজা রয়েছে, এ পর্যন্ত ছয়টি দরজা খোলা হয়েছে। এই ৬টি দরজা থেকে প্রায় এক লক্ষ ৩২ হাজার কোটি টাকার সম্পদ উদ্ধার করা হয়েছে। কিন্তু কেউ সপ্তম দরজা খোলার সাহস পায়নি। আসলে, সপ্তম দরজায় বিষাক্ত সাপের আকৃতি রয়েছে।
বলা হয় যে এটি খোলার চেষ্টা করা হলে সারা বিশ্বে বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। এই কারণেই এই দরজা অভিশপ্ত মনে করা হয়। কথিত আছে যে এই দরজা যে খুলবে, তার মৃত্যু নিশ্চিত।

No comments:
Post a Comment